যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের প্রস্তুতিতে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে দুই দিনের ছুটি ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬ । ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিস্থিতির স্থায়ী অবসানে এক ঐতিহাসিক কূটনৈতিক উদ্যোগের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পাকিস্তান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আসন্ন উচ্চপর্যায়ের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ শহর রাওয়ালপিন্ডিতে দুই দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এবং আগামীকাল শুক্রবার এই ছুটি কার্যকর থাকবে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আকস্মিকভাবে জারি করা এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ছুটির এই দুই দিন উভয় শহরের সকল প্রকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর এবং বেসরকারি অফিসসমূহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। মূলত এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতেই কর্তৃপক্ষ এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে জনস্বার্থ বিবেচনা করে হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো জরুরি সেবাসমূহ এই ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। যদিও জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে ছুটির সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, নজিরবিহীন এই নিরাপত্তার আয়োজন মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের আসন্ন বৈঠকের জন্যই করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে একটি টেকসই শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের শক্তিশালী প্রতিনিধিদল চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইসলামাবাদে পৌঁছাবে। এই সফরকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বড় ধরণের মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানি প্রতিনিধিদলও এই আলোচনায় অংশ নিতে আজ রাতেই পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত। দুই বৈরী দেশের প্রতিনিধিদের এই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংলাপ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে নতুন স্থিতিশীলতার আশা জাগিয়ে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা কমাতে এবং সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে পাকিস্তান শুরু থেকেই একটি সফল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতেই দুই দেশ দুই সপ্তাহের একটি ‘কৌশলগত বিরতি’ বা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। এবার সেই বিরতিকে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তিতে রূপান্তর করতেই ইসলামাবাদের এই আয়োজন। স্পর্শকাতর এই কূটনৈতিক মিশনের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিকে এক নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। বিশ্বনেতারা এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন যে, এই দুই দিনের রুদ্ধদ্বার আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের আগামীর ভবিষ্যৎ কোন দিকে নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে হতে যাওয়া এই মেগা বৈঠক এখন বৈশ্বিক রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সম্পাদক : এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ , নির্বাহী সম্পাদক : সামিউল ইসলাম ।  কপিরাইট © কমিউনিটি টিভি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন