বিভক্ত ফোবানা-ফেডারেশন অব বাংলাদেশী এসোসিয়েশন্স ইন নর্থ আমেরিকা’র ৪০তম সম্মেলন হতে যাচ্ছে চলতি বছরে লেবার ডে উকেন্ডে। এবার নিউইয়র্ক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া এবং কানাডার টরন্টোতে সম্মেলনের আয়োজন চলছে। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ৪০তম ফোবানা সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজকরা জানিয়েছেন এই সম্মেলন উৎসর্গ করা হয়েছে তাদের ভাষায় ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’ শেখ মুজিবুর রহমানকে। সম্মেলনের শ্লোগান থাকছে- ‘চেতনায় ৭১, হৃদয়ে বাংলাদেশ’। সংবাদ সম্মেলনে ফোবানা এই অংশের চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী বলেছেন- ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’ শেখ মুজিবুর রহমান কোন দলের একক নেতা নন, তিনি সকল বাঙালীর নেতা, বাংলাদেশের নেতা। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তাঁকে সর্বজনীন নেতায় পরিণত করতে হলে আওয়ামী লীগের পোষ্টারে তাঁর ছবি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের একটি রেষ্টুরেস্টে গত ১ এপ্রিল বুধবারসন্ধ্যায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বার্তা সংস্থা ইউএনএ’র এক প্রশ্নের উত্তরে জাকারিয়া চৌধুরী উপরোক্ত কথা বলেন। উল্লেখ্য, তিনি নিউইয়র্ক সিটি আওয়ামী লীগ নেতা এবং দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছেন। খবর ইউএনএ’র।
আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, লেবার ডে উইকেন্ডে নিউইয়র্কের এস্টোরিয়ার ইভাঞ্জেল ক্রিস্টিয়ান সেন্টারে এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের আয়োজক সংগঠন হচ্ছে এনআরবি এসোসিয়েশন ইউএসএ।
‘মিট দ্যা প্রেস’ শিরোনামের এই জণাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ফোবানা স্টীয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফোবানা’র এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী দেওয়ান মনিরুজ্জামান, হোষ্ট কমিটির কনভেনর নুরুল আমিন বাবু ও মেম্বার সেক্রেটারী মঞ্জুর কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, উপদেষ্টা ও অভিনেত্রী লুৎফুন নাহার লতা, প্রধান সমন্বযরারী আব্দুল হামিদ, হোস্ট কমিটির কো-কনভেনর সুব্রত তালুকদার, কো কনভেনার পিনাকী তালুকদার, সেমিনার কমিটির চেয়ারম্যান কবি ফকির ইলিয়াস, আপ্যায়ন কমিটির চেয়ারম্যান আলী খবির চান, মিডিয়া কমিটির প্রধান আসলাম খান ও শিবলু সাদেক শিবলী প্রমুখ। উপস্থপনায় ছিলেন শারমিন সোনিয়া সিরাজ।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কনভেনর নুরুল আমিন বাবু। লিখিত বক্তব্যে ফোবানা সম্মেলনের প্রস্তুতি ও বিস্তারিত তুলে ধরেন মেম্বার সেক্রেটারী মনজুর কাদের। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী দেওয়ান মনিরুজ্জামান ও লুৎফুন নাহার লতা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে না পেরে মুঠোফোনে শুভেচ্ছা জানান সম্মেলনের চীফ পেট্রন শফিক আলম।
জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, ফোবানার বিভক্তি মূলত আদর্শভিত্তিক বিভক্তি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করি, বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, ৭২’র সংবিধান এবং অসম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ এই চার মূলনীতিতে আমরা বিশ্বাস করি। তাই এবারের ফোবানা সম্মেলন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। আমরা নানা আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসে বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরবো এবারের ফোবানা সম্মেলনে।
নুরুল আমিন বাবু বলেন, বাঙালীর সবচে বড় অর্জন হচ্ছে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ। সেই মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে সবাইকে একত্রিত করে আমরা যদি কিছু করতে পারি তাহলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম বুঝবে, গর্ব করবে। আমরা সবাই মিলে এবারের ফোবানাকে সফল করতে চাই। আমি হিন্দু না মুসলিম সেটা জানতে চাইনা, আমি জাতে বাঙালী। আমার প্রচেষ্টা হবে যেনো আমার পরবর্তী প্রজন্ম যেনো আমাকে ভুলে না যায়।
কানাডার মন্ট্রিয়াল থেকে আগত দেওয়ান মনিরুজ্জামান বলেন, আমদের লক্ষ্য হচ্ছে ৪০তম ফোবানাকে সফল করা। সবচে বড় লক্ষ্য হচ্ছে- রাজনীতি নয়, ইতিহাসকে সংরক্ষণ করা। আমরা ইতিহাসকে আমাদের নতুন প্রজন্মের মাঝে বলিষ্টভাবে রোপন করতে চাই। আমাদের ইতিহাস রয়েছে আমরা সবাইকে সেটা জানাতে চাই। আমাদের ইতিহাসে বারবার ছোবল মারা হয়েছে, তাই আমরা সঠিক ইতিহাস জানাতে চাই।
লুৎফুন নাহার লতা বলেন, বাংলার মাটি যেই সন্তানকে জন্ম দিয়েছে সেই সন্তান পৃথিবীর যেই প্রান্তেই যাবে তিনি একজন এম্বাসেডার, বাংলার এম্বাসেডার। বাংলাদেশ এবং বাঙালীর হাজার বছরের সভ্যতা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাংস্কৃতি রয়েছে প্রতিটি বিষয়কে জাজ্বল্যমান রাখতে হবে সূর্য্যের মতো।
মনজুর কাদের বলেন, এবারের কনভেশন আয়োজনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলা সংস্কৃতির বিকাশ, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে আমাদের শিকড়ের সংযোগ স্থাপন, বাংলাদেশের মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা এবং প্রবাসীদের মধ্য পারস্পরিক সহযোগিত বৃদ্ধি করা।
নিউইয়র্ক ভিত্তিক বার্তা সংস্থা ইউনাইটেড নিউইজ অব আমেরিকা (ইউএনএ)-এর এক প্রশ্নের উত্তরে জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির পোস্টারে ব্যবহার করা উচিৎ নয়। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনক। তিনি আরো বলেন, ফোবানা একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। এটি একইসাথে একটি মানবিক সংগঠনও। ফোবানা উত্তর আমেরিকা এবং প্রবাসী সকল বাংলাদেশী এবং দেশের মানুষের পাশে থাকতে চায়। ইতোমধ্যে মেধাবীদের মাঝে বৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করছে ফোবানা।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, আদর্শগত বিবেচনায় ফোবানা বিভক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জনক, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে বিশ্বাস এবং সাম্প্রদায়িক সংগঠন ফোবানায় সম্পৃক্ত হতে পারবে না- এই চারটি সিদ্ধিান্ত ফোবানায় মেম্বারশীপ আর্টিকেলে সংযুক্তি আছে। এটাই হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ আদর্শের একমাত্র ফোবানা।
নুরুল আমিন বাবু বলেন, ফোবানা বিভক্ত হলেও আমরা সবাই বাংলাদেশী-বাঙালীদের কথাই বলি। মহান মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ, লালন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। আমাদেও কোন জাত নেই, ধর্ম নেই, আমাদের একটাই পরিচয় আমরা বাঙালী।

নিউইয়র্ক (ইউএনএ):
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ । ৪:২৩ অপরাহ্ণ