ডোপ টেস্টে পজিটিভ, নিষিদ্ধ ভারোত্তোলক মাবিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ । ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ

ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন। দুই বছরের জন্য তাকে ভারোত্তোলন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত বছর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমস শেষে মাবিয়া ডোপিং টেস্টে পজিটিভ হন। গেমস শুরুর আগে নেওয়া তার নমুনায় নিষিদ্ধ ডাইইউরেটিক্স পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশনের রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটি ওয়াদা কোড অনুযায়ী তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে মাবিয়াকে চিঠি পাঠানো হয়। আন্তর্জাতিক অ্যান্টি-ডোপিং বিধি অনুযায়ী তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

ডাইইউরেটিক্স মূলত এমন এক ধরনের ওষুধ, যা শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের করে দেয়। সাধারণভাবে এগুলোকে ওয়াটার পিল’স বলা হয়। দ্রুত ওজন কমাতে সহায়ক হলেও খেলাধুলায় এটি নিষিদ্ধ। কারণ এটি পারফরম্যান্স আড়াল করতে বা অন্য নিষিদ্ধ উপাদান লুকানোর জন্য মাসকিং এজেন্ট হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে। বিশেষ করে ভারোত্তোলনের মতো ওজনভিত্তিক খেলায় এর ব্যবহার অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। এ সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত আন্তর্জাতিক ও প্রতিযোগিতামূলক সব ধরনের ক্রীড়া কার্যক্রম থেকে দুই বছরের জন্য দূরে সরে যেতে হচ্ছে বাংলাদেশের শীর্ষ এই ভারোত্তোলককে।

তার ক্যারিয়ার কখনোই মসৃণ ছিল না। বৃত্তি বন্ধ, কোচদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, অবহেলার অভিযোগ-এর মধ্যেও তিনি লড়াই চালিয়ে গেছেন। কিছুদিন আগে বলেছিলেন, ‘আমি শেষ হয়ে যাইনি।’ এরপরই আসে ডোপিং টেস্টে পজিটিভ হওয়ার খবর, যা তার ক্যারিয়ারে অনিশ্চয়তা তৈরি করল।

অ্যান্টি-ডোপিং কাঠামো অনুযায়ী প্রথম পরীক্ষার পর দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও পজিটিভ ফল নিশ্চিত হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া ওয়াদা কোড অনুসারে সম্পন্ন হয়েছে। তবে আপিলের সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণ বা দূষিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের কারণেও শরীরে নিষিদ্ধ উপাদান শনাক্ত হতে পারে। ২৬ বছর বয়সি এই ভারোত্তোলকের জন্য দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা মানে ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়া। তবে আপিল প্রক্রিয়ায় রায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

মাদারীপুরের মেয়ে মাবিয়ার শৈশব কেটেছে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে। বাবার মুদি দোকান, সংসারের অনটন, টংঘরে বেড়ে ওঠার মধ্যে তিনি খেলাধুলাকে বেছে নেন নিজের স্বপ্ন হিসাবে। ২০১০ সালে মামার হাত ধরে জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারোত্তোলনের সঙ্গে তার সখ্য। ২০১৩ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ২০১৬ দক্ষিণ এশীয় গেমসে ৬৩ কেজি বিভাগে স্বর্ণ জিতে বাংলাদেশের জন্য প্রথম সোনার গৌরব এনে দেন মাবিয়া। সেই জয় তাকে রাতারাতি পরিচিত করে তোলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে। ২০১৯ এ নেপালের পোখারায় আবারও দক্ষিণ এশীয় গেমসে স্বর্ণ জিতে টানা দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল কীর্তি গড়েন। কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ইসলামিক সলিডারিটি গেমসেও তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৮ কমনওয়েলথ গেমসে ১৮০ কেজি তুলে ষষ্ঠ হওয়া তার ক্যারিয়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

সম্পাদক : এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ , নির্বাহী সম্পাদক : সামিউল ইসলাম ।  কপিরাইট © কমিউনিটি টিভি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন