নিউইয়র্ক: স্বাধীনতার চেতনা, মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশীদের দুই সংগঠন- প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ফোরাম নিউইয়র্কে একটি রাউন্ড টেবিল আলোচনা সভার আয়োজন করে। গত ২৯ মার্চ রোববার বিকলে জ্যাকসন হ্ইাটসের একটি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্বাধীনতার মার্চ (৭১) আর বিপ্লবের জুলাই (২৪) : অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই আলোচনায় বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা জনগণের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। সভায় বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, অরক্ষিত স্বাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। জুলাই আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, সত্যের পক্ষে দৃঢ় থাকতে এবং মানুষের অধিকারকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করতে। বর্তমান বাস্তবতায় একটি কার্যকর গণতন্ত্র, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা ছাড়া সেই চেতনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ফোরামের সদস্য সচিব এমদাদ চৌধুরী দীপু। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশের আবদুল কাদের এবং বাংলাদেশ ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক মিসবাহ উদ্দীন।
সভায় জাগপা যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি এএসএম রহমতুল্লাহ বলেন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ এখন সময়ের দাবি। তিনি যুবসমাজকে পরিবর্তনের নেতৃত্বে আসার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ফোরামের নেতা আজিজুর রহমান বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন কোনো রাষ্ট্রের উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হলে তা জাতির অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। মিসবাহ উদ্দীন বলেন, সংলাপ, সহনশীলতা ও আইনের শাসনের মাধ্যমেই একটি স্থিতিশীল সমাজ গড়ে ওঠে। নুরুল হক চৌধুরী বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য।
আবদুল আলীম বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে।
নামুল হক তালুকদার বলেন, গণতন্ত্র একটি রাষ্ট্রের শক্তির ভিত্তি। রুকসানা পারভিন বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশের আবদুল কাদের বলেন, আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ চাইÑযেখানে প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর সম্মান পায়। তিনি নতুন প্রজন্মের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। লিটন মজুমদার বলেন, যুবসমাজই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রধান শক্তি। দিপন গাজী বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধই জাতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে। কবির চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার মূল চেতনা হচ্ছে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাÑএটি অবহেলিত হওয়ার সুযোগ নেই। তুহিন মালিক বলেন, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য।
কমিউনিটির ফিনান্সিয়াল ও অ্যাকাউন্ট কনসালটেন্ট মুখতার হোসাইন বলেন, অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও সুশাসন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি প্রবাসীদের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি গঠনে ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
এনসিপি যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি ডা. সাইমন বলেন, মানবাধিকার একটি সার্বজনীন বিষয়Ñএটি কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। রাকিব বলেন, তরুণদের মধ্যে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে।
কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট মোহাম্মদ জাবেদ উদ্দিন বলেন, স্বাধীনতাকে অর্থবহ করা আমাদের প্রতিদিনের দায়িত্ব। মোহাম্মদ জহিরুল হক মুকুল বলেন, জাতীয় ঐক্য ছাড়া কোনো সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সালাউদ্দিন রহমান, বকুল আহমেদ, আবুল হোসাইন ও কাজল আহমেদ।
সভাপতির বক্তব্যে এমদাদ চৌধুরী দীপু বলেন, স্বাধীনতা শুধু একটি ঐতিহাসিক অর্জন নয়, এটি একটি চলমান দায়িত্ব। মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠা এখন জরুরি। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে রাষ্ট্রগঠনের নতুন পথ ভাবতে হবে। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬ । ১১:০৩ অপরাহ্ণ