সশস্ত্র বাহিনী স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি, মর্যাদার প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ । ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা এমন এক সশস্ত্র বাহিনী চাই যাদেরকে বহিঃশক্তি সমীহ করবে এবং দেশের সাধারণ জনগণ সব সময় আস্থায় রাখবে। পেশাদারিত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস না করে সশস্ত্র বাহিনীকে সব সময় একটি সুউচ্চ আদর্শিক অবস্থানে থাকতে হবে।

রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ দরবারে কর্মকর্তা ও বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা রক্ষায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি স্তরে দেশপ্রেমের যে উজ্জ্বল অগ্নিশিখা জ্বালিয়েছিলেন, তা যেন কখনো নিভে না যায়।

তিনি বিশ্বাস করেন যে, একটি ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র বাহিনী থাকলে কোনো অপশক্তিই বাংলাদেশকে পরাজিত করতে পারবে না। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সশস্ত্র বাহিনীর সময়োপযোগী ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী চরম অস্থিরতা এবং দৃশ্যমান প্রশাসনিক অচলাবস্থার মধ্যেও এই বাহিনী অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল, নগর-বন্দর এবং দেশের স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জাতীয় শক্তি এবং মর্যাদার প্রধান প্রতীক। রাষ্ট্রীয় সংবিধানের প্রতি পূর্ণ দায়বদ্ধতা এবং জনগণের অবিচল আস্থাই হতে হবে এই বাহিনীর পথ চলার প্রধান চালিকাশক্তি। তিনি মনে করেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই প্রতিটি সদস্যের একমাত্র এবং পবিত্রতম চূড়ান্ত দায়িত্ব।

গত ১২ই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর যে সহায়তা ছিল, তাকে তিনি দেশ ও গণতন্ত্রের প্রতি বাহিনীর গভীর বিশ্বাসের প্রতিফলন বলে অভিহিত করেন।অতীতের বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো বর্বরোচিত ঘটনার মাধ্যমে এক সময় সেনাবাহিনীকে ভেতর থেকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।

ওই নির্মম ঘটনার মাধ্যমে বাহিনীর যে অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে, তা জাতীয় ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে থাকবে। তিনি অভিযোগ করেন যে, পরবর্তী সময়েও নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাহিনীকে সাধারণ মানুষের সামনে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াস দেখা গেছে। তাঁর মতে, সশস্ত্র বাহিনীকে সব সময় বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে এর পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও তিনি দরবারে উল্লেখ করেন।

সম্পাদক : এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ , নির্বাহী সম্পাদক : সামিউল ইসলাম ।  কপিরাইট © কমিউনিটি টিভি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন