লিমনের মরদেহ উদ্ধার : রুমমেট হিশাম গ্রেফতার : চলছে বৃষ্টির সন্ধান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ । ১:১৯ পূর্বাহ্ণ

ফ্লোরিডার টাম্পায় দুই বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর নিখোঁজ রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি দুইজন ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) লিমনের মরদেহ মিলেছে। এ ঘটনায় নাটকীয়ভাবে আটক হয় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিহ। অপরদিকে নাহিদা বৃষ্টির সন্ধান মিলেনি এখনো।
শেরিফ অফিসের তদন্ত অনুযায়ী, হিশাম আবুঘারবিহ এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান কারিগর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো ‘আনলফুল মুভিং অফ এ ডেড বডি’ বা অবৈধভাবে মরদেহ স্থানান্তর। গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন যে, জামিল লিমনকে হত্যার পর বা তার মৃত্যুর পর হিশাম নিজে সেই মরদেহটি বহন করে নিয়ে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিচে ফেলে দিয়ে আসেন। এছাড়া সে লিমনের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বা ঘটনাস্থলের তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করার  চেষ্টা করেছে যাতে পুলিশ তাকে শনাক্ত করতে না পারে।
গ্রেফতার হওয়া হিশাম এবং নিহত জামিল লিমন একই অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন। তারা টাম্পার লেক ফরেস্ট এলাকার একটি ফ্ল্যাটে রুমমেট হিসেবে ছিলেন। শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার জানিয়েছেন, রুমমেট হওয়ার সুবাদে হিশাম লিমনের দৈনন্দিন জীবন এবং নাহিদা বৃষ্টির সাথে তার সম্পর্কের বিষয়ে জানতেন। নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টিকে জোরপূর্বক আটকে রাখার অভিযোগও হিশামের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, যা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে এই দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার পেছনে হিশামের সরাসরি হাত রয়েছে।
হিশাম আবুঘারবিহ জন্মসূত্রে ফ্লোরিডার স্থানীয় বাসিন্দা। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর, তার জন্ম আমেরিকায়। সে ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডার ছাত্র ছিল না, তবে ক্যাম্পাসের নিকটবর্তী এলাকাতেই বসবাস করত। পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী, হিশামের পূর্ব অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স বা ঘরোয়া সহিংসতার অভিযোগ ছিল। সে মূলত: টাম্পা এলাকাতেই বেকার বা খণ্ডকালীন কাজ করত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
গ্রেফতারের সময় হিশাম যে পুলিশি বাধা তৈরি করেছিল এবং যেভাবে ড্রোন ও সোয়াট টিম ব্যবহার করে তাকে ধরতে হয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট যে সে পালানোর চেষ্টা করছিল। হিলসবরো শেরিফ অফিস নিশ্চিত করেছে যে, হিশাম এখন কারাগারে আটক আছে এবং তাকে জেরা করে নাহিদা বৃষ্টির বর্তমান অবস্থান জানার চেষ্টা চলছে।
এদিকে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ফ্লোরিডা থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যের ‘ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার’ দুই বাংলাদেশী পিএইচডি শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম জামিল লিমন। এই ঘটনা সন্দেহভাজন লিমনের রুমমেট হাসিম-কে (২৬) গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে অপর বাংলাদেশী শিক্ষার্থী বৃষ্টির কোন সন্ধান এখনো জানা যায়নি। বৃষ্টির পরিণতি নিয়ে সবাই উদ্বেগ উৎকন্ঠা এখন চরম সময় অতিবাহিত করছে।
একটি ফোন কলের সূত্র ধরে পুলিশ সন্দেহজনক ব্যক্তির বাসায় পৌছায়। তাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালে, সে আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করে। ফলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সোয়াট দলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করছে। খবরটি স্থানীয় মূলধারার মিডিয়া নিয়মিত আপডেট দিচ্ছে। ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে আসল ঘটনা জানার জন্য। ঘাতকের মোটিভসহ অন্যান্য বিষয়ে আপডেট জানারও চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজনকে পুলিশ এখন জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হবে।
শুক্রবার সকাল ১০:৩৬ মিনিটে সোয়াট টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সকাল ১১:৫৫ মিনিটে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে কৌশলে আহট কওে হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ব্যক্তি ইউএসএফের কোনো শিক্ষার্থী নন।
এর আগে সকালের আপডেটে বলা হয়েছিল, নিখোঁজের ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে বিষয়টি জানিয়েছে বলে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা মিডিয়াকে জানিয়েছেন।
গোলাম মোর্তোজা জানান, ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও এফবিআইয়ের সঙ্গে এবং মিয়ামি কনস্যুলেট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং তদন্তকারী পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিম্যালয় ক্যাম্পস সফর এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিস্ট কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে বিস্তরিত জানার চেষ্টা করেন। নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী হলেন জামিল লিমন (২৭) এবং নাহিদা বৃষ্টি (২৭)। উভয়েরই পরিবার বাংলাদেশে রয়েছে।
উল্লেখ্য, নিখোঁজ জামিল লিমন এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি উভয়কেই সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল সকালে দেখা গিয়েছিল। লিমনকে সকাল ৯টায় ট্যাম্পায় তার বাসস্থান অ্যাভালন হাইটসে এবং বৃষ্টিকে সকাল ১০টায় ইউএসএফ ক্যাম্পাসের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস বিল্ডিংয়ে শেষবার দেখা গিয়েছিল। লিমন ‘ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার’-এর ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। আর বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণা করছিলেন। পুলিশের ধারণা দুটি নিখোঁজের ঘটনা পরস্পর সম্পর্কিত।

সম্পাদক : এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ , নির্বাহী সম্পাদক : সামিউল ইসলাম ।  কপিরাইট © কমিউনিটি টিভি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন