নিজেদের মাঠেই আতলেতিকোর কাছে হেরে পিছিয়ে থাকল বার্সা
গ্রাম কিংবা শহর অঞ্চলের ঐতিহ্য হারিকেন বা কুপিবাতি বিলুপ্তি
‘ছবিওয়ালা’ বড় পর্দায় আসছে বিনামূল্যে
নিউজিল্যান্ড সিরিজের নতুন সময়সূচিতে পরিবর্তন
চাহিদা অনুযায়ী শ্রমবাজার খুলতে রাজি মালয়েশিয়া
আজ জাতীয় সংসদে ১২টি বিল পাস
হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সালের অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড
২ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন, ২৪ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের প্রস্তুতিতে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে দুই দিনের ছুটি ঘোষণা
দেশে ফেরা বেকার প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের চেষ্টা করছি
চুক্তি না মানলে আরও শক্তিশালী ও ভয়ংকর হামলার হুমকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের
নিজেদের মাঠেই আতলেতিকোর কাছে হেরে পিছিয়ে থাকল বার্সা
মালয়েশিয়ায় ৭৯ বাংলাদেশি আটক
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে, সকাল থেকেই কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি
অবশেষে মুসল্লিদের জন্যে খুলে দেয়া হয়েছে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ
লিভারপুলকে হারিয়ে সেমির লড়াইয়ে নিজেদের সহজে এগিয়ে নিল পিএসজি
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ, ট্রাইব্যুনালে হাজির ৬ আসামি
ঐতিহাসিক সফর শেষে পৃথিবীর পথে নভোচারীরা
ইসরায়েলের ‘নির্বিচার’ বোমা হামলা বন্ধের আহ্বান জানাল স্পেন
ওসমান হাদি হত্যার দুই আসামিকে ফেরত দিতে সম্মত ভারত
৬ মাসের মধ্যে ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য দুঃসংবাদ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সফর হতে যাচ্ছে ভারতে
লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার
শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন
সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা আইন’ পাস
জাতীয় তথ্য বাতায়নের নতুন সংস্করণ চালু, যুক্ত হলো ৩৫ হাজারের বেশি ওয়েবসাইট
ফ্লোরিডায় গুলিবিদ্ধ মার্কিন র্যাপার অফসেট, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
আফ্রিকায় এশিয়া কাপের আদলে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা
‘দম’ সিনেমার প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিলকে দুদকের নোটিশ
আবারও আইনি জটিলতায় সালমান
হরমুজ প্রণালীতে ‘যানজট’ নিরসনে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের হজে না যাওয়ার পরামর্শ
দেশের ২৮৪৭ গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই : শিক্ষামন্ত্রী
নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিসহ নিহত ৪
নিউইয়র্কে রাউন্ড টেবিল আলোচনায় বক্তারা : স্বাধীনতা ও জুলাই বিপ্লব অর্থবহ এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্তারোপ
বাহরাইনে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার জরুরি নির্দেশ
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস
মধ্যরাত থেকে যেসব এলাকায় বন্ধ হচ্ছে মোটরসাইকেল চলাচল
রিমান্ড-জামিন নামঞ্জুর, শিরীন শারমিন কারাগারে
জ্বালানি তেল কিনতে চালু হচ্ছে ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা
বিসিবির এডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল
লাল-সবুজের জার্সিতে হাসিমুখে ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই : সাকিব আল হাসান
আজ দিল্লি সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মালয়েশিয়া থেকে আসছে ৫১ হাজার টন অকটেন
দেশে ৪ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল কোথায়
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশন গঠিত
ঠিকানা টিভি হবে বাংলাদেশী কমিউনিটির আল জাজিরা : বর্ষপূর্তী অনুষ্ঠানে এম এম শহীন
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু
জাতীয় সংসদে ৭টি বিল পাস,৩ টিতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’
অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে : মন্ত্রী আহমেদ আযম খান
ভারতকে কাঁদিয়ে ইতিহাস গড়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ : অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর
ফ্লোরিডায় দূর্বত্তের হামলায় প্রবাসী বাংলাদেশী নারী নিহত
নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’ ১৭ মে
নিউইয়র্কে গারবেজ ট্রাকের ধাক্কায় নিহত বাংলাদেশী তরুণীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন
আতিকুর রহমান ও বেদারুল ইসলাম বাবলা ফোবানার বোর্ড অফ ডিরেক্টর নির্বাচিত
বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডার ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
নাগরিকত্ব আইন সহজ করল কানাডা, সুবিধা পাবেন যারা
মর্মান্তিক
চলমান প্রেক্ষাপটেও নিরাপদ ও সহজে বাংলাদেশ ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে : শামসুদ্দীন বশির
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিশোরগঞ্জ ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের স্বাধীনতা দিবস পালন
নতুন সাজে চালু হলো জ্যামাইকার ঘরোয়া রেষ্টুরেন্ট
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে অপহরণের এক ঘণ্টার মধ্যে স্কুলছাত্র উদ্ধার
পাকিস্তানে ভালোবেসে ২২ বছরের তরুণীকে ৭০ বছরের বৃদ্ধের বিয়ে
বিয়ে করলেন নারী দলের ক্রিকেটার সুপ্তা
লাগেজে মদের বোতলের খবর অস্বীকার করে মেহজাবীন চৌধুরীর স্ট্যাটাস
‘গ্যাংস্টার’ লুকে কলকাতায় শাকিব খান, শুটিংয়ের ছবি প্রকাশ্যে
ছবি-ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি কি না, জানবেন যেভাবে
ইতালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত যুবকের মৃত্যু
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোজায় কি পরিমাণ টকদই খাবেন
তানিয়া বৃষ্টির মাথায় অস্ত্রোপচার, সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা
বিএনপি’র নিরঙ্কুস জয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের আনন্দ মিছিল
বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবস এলো যেভাবে
প্রকাশ্যে চিত্রনায়িকা বুবলীর বেবিবাম্প, আবারও বাবা হচ্ছেন শাকিব খান!
কলম্বোয় ভারত-পাকিস্তান জ্বর: হোটেলের কক্ষ নেই, আকাশ ছুঁয়েছে ফ্লাইটের ভাড়া
বিএনপি জয়ী হওয়ায় আশায় বুক বাঁধছেন কলকাতার ব্যবসায়ীরা
বিভাজন নয়, জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি
১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভের ডাক
অ্যাপ ব্যবহার না করলেও আপনার তথ্য সংগ্রহ করছে টিকটক, থামানোর উপায়
‘আমাকে যারা বোরকা কিনতে বলেছিল, তাদের জন্যই এই ছবি’
বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে জিম্বাবুয়ের চমক
তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় আলোচনায় যারা
মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি শক্তিশালী রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা, কোন দল কত পেল
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী, ভোট পড়ল ৬০.২৬ শতাংশ
নিউইয়র্কে দুই দিনব্যাপী ৪র্থ ইউএসবিসিসিআই বিজনেস এক্সপো ও গ্লোবাল এসএমই ফেয়ার ২০২৫ সম্পন্ন
ফিলাডেলফিয়ায় লোক উৎসব ২০২৫: প্রবাসে বাংলার লোকঐতিহ্যের রঙে এক মনোমুগ্ধকর সন্ধ্যা
রাশিয়াকে ভূখণ্ড ছেড়ে দেয়ার বিষয়টিই মার্কিন শান্তি পরিকল্পনার প্রধান সমস্যা
দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন বেগম খালেদা জিয়া
বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র মারা গেছেন
সুপার ওভারে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ, রেকর্ড তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান
ইন্দোনেশিয়ায় জেগে উঠল ভয়ংকর আগ্নেয়গিরি, সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি
যেভাবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে সন্দেহ দূরে রাখবেন
এনসিপির মনোনয়ন কিনলেন সেই রিকশাচালক, যে আসন থেকে লড়বেন
এক্সপ্রেসওয়ের রেলিং ভেঙে নিচে পড়লো প্রাইভেটকার, নিহত ১
লিটন ও মুশফিকের জোড়া সেঞ্চুরিতে চারশ রানের পথে বাংলাদেশ
টরন্টোতে শিরীন চৌধুরীর একক সঙ্গীত সন্ধ্যা
বিশ্বজুড়ে বহু ওয়েবসাইট হঠাৎ অচল!
দীর্ঘ ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস রচনা করলো বাংলাদেশ
উনিশ শতকের শেষের কথা। ঢাকা পূর্ববঙ্গের প্রধান শহর হলেও কলকাতার সাথে দৃশ্যমান ফারাক অনেক। সেই ১৮৫৭ সাল থেকেই কলকাতার রাস্তায় দেখা যায় গ্যাস বাতির ব্যবহার। আর এদিকে রাত নামলে পূর্ববঙ্গের বিস্তৃত জনপদে নেমে আসে অন্ধকার। ঢাকা আর পাড়া গাঁগুলোকে তখন আর আলাদা করে চেনার উপায় থাকে না। শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় কেরোসিন বাতির ব্যবস্থা থাকলেও সামান্য জোর হাওয়া কিংবা বৃষ্টিতে সে বাতির আয়ু ফুরিয়ে নেমে আসে ঘোর অমানিশা। বিত্তবানদের ঘরে তবু ঝাড়বাতির চল আছে। বাদবাকি সবই চলে হারিকেন, কুপি বাতি আর মোমের আলোয়। ১৮৮৬ সালে ব্রিটিশ সরকার নবাব আবদুল গণিকে নাইট কমান্ডার অভ দ্য স্টার অব ইন্ডিয়া (কে.সি.এস.আই) উপাধিতে সম্মানিত করে। পুত্র নবাব আহসানউল্লাহ পিতার এই প্রাপ্তিকে স্মরণীয় রাখার জন্য ঢাকার রাস্তায় গ্যাস বাতির ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন। নবাবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সড়কে তেলের বাতি বদলের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু নানা কারণে বিলম্বিত হতে থাকে গ্যাস বাতি স্থাপনের কাজ।
দেখতে দেখতে কেটে যায় এক যুগেরও বেশি সময়। মানব সভ্যতার ইতিহাসে আগমন ঘটে এক নতুন শতাব্দীর। ঢাকার রাস্তায় তবু গ্যাস বাতির দেখা মেলে না। নবাব আহসানউল্লাহ কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার কথা রাখতে পেরেছিলেন। এবার আর শুধু গ্যাস বাতি নয়, সরাসরি বিজলি বাতির ব্যবস্থা করে তিনি ঢাকাবাসীকে চমকে দিলেন। মৃত্যুর মাত্র ন’দিন পূর্বে নবাব বাহাদুরের স্বপ্ন পূর্ণ হলো, রাখলেন নগরবাসীকে দেওয়া দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি। সাড়ে ৪ লাখ টাকা খরচ করে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হলো। ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে জ্বলে উঠল বিজলি বাতি। আলো জ্বলল নবাবের প্রিয় আহসান মঞ্জিলেও। ঢাকায় বাতি ব্যবহারের কার্যক্রম শুরু হয় ১৮৬৯ সালে।
মিউনিসিপ্যালিটির সভাপতি ও ম্যাজিস্ট্রেট জর্জ গ্রাহামের নির্দেশ অনুযায়ী, সিভিল সার্জন ড. হেনরি কাটক্লিফ ঢাকার পয়ঃনিষ্কাশন ও উন্নয়নবিষয়ক একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। রিপোর্টে তিনি ঢাকার রাস্তায় সড়ক বাতি স্থাপনের কথা তুলে ধরেন। তবে গ্যাস বাতির বদলে কাটক্লিফ কেরোসিন বাতি জ্বালানোর প্রস্তাব রাখেন। রিপোর্ট দেখে নবাব খাজা আবদুল গণি বলছিলেন, এ রিপোর্ট বাস্তবায়িত হলে ঢাকা স্বর্গে পরিণত হবে। কিন্তু ঢাকার মানুষের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল নয়। আর তাই নগর উন্নয়নে আর্থিক অনুদান দেওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১৮৭০ সালে নবাব আব্দুল গণি নিজেই ঢাকায় একটি গ্যাস লাইট ফ্যাক্টরি স্থাপন করেন। এদিকে ১৮৭৭ সালে রানী ভিক্টোরিয়া ভারতসম্রাজ্ঞী ঘোষিত হলে ব্রিটিশ সরকার ঘটনাটি উদযাপনের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করে। ঢাকায় আয়োজন উপলক্ষে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত হয় নাগরিক কমিটি। মিটির উদ্যোগে সদস্যদের চাঁদায় ৬ হাজার ৫০০ টাকার ফান্ড গঠন করা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, ওয়াইজঘাটে তৎকালীন মিউনিসিপালিটি অফিস থেকে শুরু করে চকবাজার পর্যন্ত কেরোসিনের ১০০টি সড়কবাতি স্থাপন করা হবে। পরে এ প্রকল্পের আওতায় ৬০টি কেরোসিন ল্যাম্পপোস্ট বসানো হয়। সড়কে কেরোসিনের বাতিই ছিল মূল ভরসা। কিন্তু, সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই বাতি নিভে গিয়ে নেমে আসত অন্ধকার। মজার ব্যাপার হলো, রোজ এই কেরোসিন বাতি জ্বালানো-নেভানোর জন্য উনিশ শতকে বাতিওয়ালা নামে এক নতুন পেশাজীবী সম্প্রদায়ের বিকাশ ঘটে। সন্ধ্যা নামলেই বড় বড় মই হাতে এই বাতিওয়ালাদের দেখা মিলত। বিদ্যুৎ আসলেও দীর্ঘদিন পর্যন্ত কেরোসিন বাতির প্রচলন ছিল। ১৯৩৫ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকার রাস্তায় ৮৬৯টি কেরোসিন বাতি ও ১ হাজার ৬৬টি বৈদ্যুতিক সড়কবাতি ছিল। ১৮৮৬ সালে নবাব আবদুল গণি কেসিএসআই উপাধি লাভ করলে পুত্র নবাব আহসানউল্লাহ ঢাকার রাস্তায় গ্যাস বাতি বসানোর ঘোষণা করেন। কলকাতার ইংলিশম্যান পত্রিকার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমার পিতার ‘নাইট কমান্ডার অভ দ্য স্টার অভ ইন্ডিয়া’ উপাধি প্রাপ্তিতে নগরবাসী যে উল্লাস-উদ্দীপনা দেখিয়েছে, তাতে আমি অভিভূত।
হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের প্রদর্শিত এই সৌজন্যের প্রতিদান হিসেবে আমি ঢাকার প্রধান রাস্তাগুলোতে সম্পূর্ণ নিজ খরচে তেলের বাতি বদলে গ্যাস বাতি স্থাপনের প্রস্তাব রাখছি। তবে এখানে আমার একটা শর্ত থাকবে। আলোক প্রজ্বলনে যে অর্থ ব্যয় হবে, মিউনিসিপ্যালিটিকে তার বদলে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও দমকল যন্ত্র ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।” ১৮৮৮ সালে ভারতবর্ষের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড ডাফারিন ঢাকায় আসেন।
ডাফারিনের ঢাকায় আসার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল নবাবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সড়কে গ্যাস বাতি বসানোর নিদের্শনা প্রদান। ভাইসরয় চলে যাওয়ার পর কার্যক্রম একরকম স্থবির হয়ে পড়ে। নবাব আহসানউল্লাহর লিগ্যাল সেক্রেটারি জিএল গার্থ গ্যাস বাতি স্থাপনের জন্য ১৮৯১ সালে ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটির কাছে পুনরায় একটি মেমো লিখে পাঠান। পৌরসভা মেমোটি বেশ ভালোভাবে গ্রহণ করে। তবে কোনো কারণে শেষ পর্যন্ত বাতি স্থাপন সম্ভব হয়ে উঠেনি। এরপর কেটে যায় এক দীর্ঘ সময়। ততদিনে নবাবের প্রতিশ্রুতির কথা মানুষ সম্ভবত ভুলতে বসেছে। ১৮৯৭ সালে নবাব খাজা ইউসুফজান পৌরসভার সভাপতি হন। সম্পর্কে তিনি নবাব আহসানউল্লাহর বোনের স্বামী ছিলেন।
পরের বছর ঢাকা প্রকাশ পত্রিকায় ফের সড়ক বাতির প্রসঙ্গ ওঠে। নবাব আহসানউল্লাহকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয় যে, এতদিন হয়তো তিনি পৌরসভার ওপর ভরসা রাখতে পারতেন না। আর তাই বারো বছরেও সড়কে গ্যাস বাতির দেখা মেলেনি। এবার স্বয়ং নবাবের দুলাভাই পৌরসভা প্রধান হওয়ার পর সড়ক বাতির আশা করতে আর কোনো দ্বিধা রইল না। পত্রিকার সমালোচনার জন্য হোক বা না হোক, নবাব আহসানউল্লাহ এবার সত্যিই সড়কবাতি স্থাপনের ব্যবস্থা করে ফেললেন। তবে ‘কাগুজে নবাব’ হলেও তিনি যেকোনো রাজা বাদশাহর চেয়ে কম নন, সে প্রমাণও রাখলেন। গ্যাস বাতির পরিবর্তে এবার বিলাতি বিদ্যুৎ বাতির পেছনে ঢাললেন লাখ লাখ টাকা। ১৯০১ সালে ‘দি ঢাকা ইলেকট্রিক লাইট ট্রাস্টিস’ গঠন করা হয়। এ কমিটি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেওয়া হয় পৌরসভাকে। বাতি স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষনের জন্য কমিটির ফান্ডে নবাব সাড়ে ৪ লাখ টাকা দান করেন। একই বছর ৫ জুলাই, ট্রাস্টি কমিটির পক্ষ থেকে জেমস থমাস রেনকিনের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রচারিত হয়। সেখানে লেখা হয়, দি ঢাকা ইলেক্ট্রিক লাইট ট্রাস্টিস ১৮৯৫ সালের আইন অনুযায়ী, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সড়কে বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইসেন্সের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সড়কগুলো ছিল- রহমতগঞ্জ রোড, চকবাজার সার্কুলার রোড, মোগলটুলি রোড, নালগোলা রোড, বাবু বাজার রোড, কমিটিগঞ্জ রোড, আরমেনিয়া স্ট্রিট (রায় বাহাদুর সড়ক পর্যন্ত), ইসলামপুর রোড, আহসানমঞ্জিল রোড, পাটুয়াটুলি রোড, ওয়াইজঘাট রোড, পাটুয়াটুলি লোয়ার রোড, বাংলাবাজার রোড, ডাল বাজার রোড, ফরাশগঞ্জ থেকে লোহারপুল রোড, দিগবাজার রোড. ভিক্টোরিয়া পার্ক, লক্ষ্মীবাজার রোড, সদরঘাট রোড, শাঁখারিবাজার রোড, জনসন রোড, নবাবপুর রোড, রেলওয়ে স্টাফকোয়ার্টার রোড (রমনা টিচিং গ্রাউন্ড পর্যন্ত) জামদানি নগর রোড ও রাজার দেউড়ি লেনসহ সাহেব বাজার পর্যন্ত যতগুলো রাস্তার সংযোগ থাকে।
ভারতবর্ষের প্রথম দিককার বৈদ্যুতিক সড়ক বাতি। কলকাতার মতো ঢাকাতেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের দায়িত্ব পায় ইংল্যান্ডভিত্তিক একটি কোম্পানি। ‘মেসার্স অক্টাভিয়াস স্টিল অ্যান্ড কোম্পানি’ নামের প্রতিষ্ঠানটি ঢাকায় প্রথম বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ শুরু করে। বর্তমান হাতিরপুল এলাকায় ছিল কোম্পানির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটির অঙ্গসংগঠন হিসেবে ‘ডেভকো’র আত্মপ্রকাশ ঘটে। ডেভকোর মাধ্যমেই ঢাকায় বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বিকাশ লাভ করে। ১৯৩৩ সালে ঢাকার পরিবাগে ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ধানমন্ডি পাওয়ার হাউজ’ প্রতিষ্ঠা করে ডেভকো। সড়ক বাতি ছাড়া আবাসিক সংযোগও দেয়া হতো। মূল গ্রাহকগণ সবাই ছিলেন অভিজাত এলাকার বাসিন্দা। বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকা আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে গণ্য হতো। তবে সাশ্রয়ী ছিল বলে সাধারণ মানুষের মাঝে তখনও কেরোসিন বাতি জনপ্রিয় ছিল।
নবাববাড়িতে আলোকসজ্জার জন্য নতুন এক উপলক্ষ যুক্ত হলো। আড়ম্বরপূর্ণভাবে আয়োজিত হলো নবাব আহসানউল্লাহর পুত্র খাজা আতিকুল্লাহর বিয়ের অনুষ্ঠান। দিনটি ছিল ১৯০১ সালের ৭ ডিসেম্বর। বাংলায় সেবার হাড় কাঁপানো শীত। কিন্তু সে তীব্র শীত উপেক্ষা করে নগরবাসী উপস্থিত হলো আহসান মঞ্জিল প্রাঙ্গণে। মঞ্জিলের দোতলার বারান্দায় বসেছে অধিবেশন। ছোটলাট স্যার জন উডবার্নকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি এসে বিদ্যুৎ প্রজ্বলন করবেন, এমনটাই কথা ছিল। কিন্তু অসুস্থতার জন্য লাটসাহেব আসতে পারলেন না। কলকাতা থেকে রাজস্ব বোর্ডের সেক্রেটারি চার্লস ওয়াল্টার বোল্টন এলেন প্রধান অতিথি হিসেবে। সভার মধ্যমণি হয়ে ঠিক মাঝখানে বসলেন তিনি।
ডানদিকে আসন নিয়েছেন নবাব আহসানউল্লাহ। বাঁ-দিকে বসে আছেন পৌর কমিশনার। ৫টার দিকে শুরু হলো অধিবেশন। কমিশনার সাহেব ইলেকট্রনিক লাইট সম্পর্কিত প্রবন্ধ পাঠ করলেন। এরপর বক্তৃতা দিতে এলেন মিস্টার বোল্টন। নবাব আহসানউল্লাহর দানশীলতার প্রশংসা করলেন তিনি। বক্তৃতার এক অংশে বললেন পৌরসভার দায়িত্ব বেড়ে যাওয়ার কথা, তাগাদা দিলেন জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করার।
সেই সাথে সরু, অপ্রশস্ত রাস্তাগুলোতে বিজলি বাতি মানাবে কি না, পৌরসভার কাছে সে প্রশ্নও রাখলেন। এরপর এলো সেই বহুল প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। বোল্টন সাহেব একটি সুইচে চাপ দিলেন। মুহূর্তে জ্বলে উঠল উজ্জ্বল বাতি। তেল বা গ্যাস ছাড়া কোনো ‘অলৌকিক’ শক্তিতে বাতি জ্বলছে, সাধারণ মানুষের কাছে তখন তা এক বিস্ময়কর ব্যাপার। উপস্থিত সবাই সেদিন এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইল। কেরোসিন বাতি আর চাঁদের আলোয় শহরের পথ-ঘাট দেখে অভ্যস্ত নগরবাসী প্রথমবারের মতো বিদ্যুতের আলোয় প্রিয় ঢাকাকে দেখল এক নতুন রূপে।
প্রযুক্তির এই যুগে আমরা গ্রাম-বাংলার অনেক ঐতিহ্য হারিয়েছি। হারিয়েছি পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্রে ব্যবহৃত অতি-অপরিহার্য প্রয়োজনীয় অনেক কিছু, যা ছিল একেবারেই মানুষের অতীব প্রয়োজনীয় জিনিস। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা আর নিত্যনতুন আবিষ্কারের ফলে এসব প্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যে এরইমধ্যে বিদায় নিয়েছে ঢেঁকি, পালকি থেকে শুরু করে লাঙ্গল, জোয়াল, মইসহ অনেক কিছু। আবার অনেক সামগ্রী বিদায়ের প্রহর গুনছে। হয়তো এরইমধ্যে তারা বিলুপ্ত হবে খুব নীরবে এবং নিঃশব্দে।
বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কার এদের স্থান দখল নিয়েছে বেশ দাপটের সঙ্গে। এক সময়ের দুর্দান্ত দাপট নিয়ে চলা এসব সামগ্রী বর্তমান এবং আগামী প্রজন্ম তার শিশুসন্তানদের কিচ্ছা-কাহিনিতে ব্যবহার করে ঘুমের সংগীত শুনাবে সন্দেহ নেই। অথবা বার্ষিক ক্যালেন্ডারের ছবি করে এসব জিনিসের হারানো গৌরবময় ইতিহাস জাতির কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করবে।
তবে এ কথা শতভাগ আস্থার সঙ্গে বলা যায় যে, কালের বিবর্তনে যারাই হারিয়ে যাচ্ছে বা গেছে তারা যে এ নবযুগে আবার তাদের হারানো জৌলুস নিয়ে সগৌরবে ফিরে আসবে, সেটা অসার কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়। তবে আমরা আশা করতে পারি অথবা দাবি জানাতে পারি, হারিয়ে যাওয়া এসব সামগ্রী চার দেয়ালে আবদ্ধ কোনো এক জাদুঘর কক্ষে রেখে তার নিজের অতীত মহিমা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সুযোগ যেন করে দেওয়া হয়।
গ্রামবাংলা তথা মানুষের অতি-পরিচিত এবং শতভাগ প্রয়োজনীয় জিনিস হারিকেন ও কুপিবাতি। ভিন্ন খানে ভিন্ন নামে পরিচিত হলেও হারিকেন ও কুপিবাতি নামেই ওরা সবার কাছে পরিচিত। যা অতীতে আমাদের অস্তিত্ব ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল। চিরচেনা এ গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী দেশের প্রত্যন্ত কোনো এক অঞ্চলে দেখা গেলেও আজ সেটা প্রায় বিলপ্তির পথে।
হারিকেন হলো কেরোসিন তেলের মাধ্যমে বদ্ধ এক কাচের পাত্রে ঢাকা আলো জ্বালানোর এক সুব্যবস্থা। যার বাইরের অংশ হালকা কাচের আবরণ দিয়ে মোড়ানো থাকে, যার কোনোটা লম্বাটে আবার কোনোটা মধ্যম চ্যাপ্টা গোলাকার। যাকে আমরা চিমনি বলে থাকি। চিমচির ভেতরের অংশে থাকে একটা ছোট ছিপি এবং ছিপির মাঝে থাকে আলো জ্বালানোর জন্য এক টুকরো কাপড়। ছিপির মধ্যে সে কাপড়ের টুকরা ঢুকিয়ে একটি ছোট গিয়ারের মাধ্যমে ওঠা-নামা করানো যায় এবং আলো কমানো বা বাড়ানোর কাজ হয়ে থাকে। হারিকেনের নিচের অংশে থাকে তেল ধারণ করার জন্য ছোট্ট একটা ট্যাংকি। সে ট্যাংকির তেল কাপড়ের টুকরো শোষণ করে আলো বিলিয়ে দেয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে এবং কাপড়ের টুকরোর মাথায় অগ্নি সংযোগের ফলে সে আলো দিয়ে থাকে। হারিকেনকে বহন করার জন্য তার বাইরের অংশে থাকে একটি লোহার ধরুনি। যেটা ধরে আমরা হারিকেনকে অতি সহজে বহন করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অনায়াসে নিয়ে যেতে পারি।
কুপিবাতি বা ল্যাম্পের আকার একটু ভিন্ন ধরনের। বিভিন্ন অঞ্চলে কুপিবাতিকে অনেকে আবার ‘ল্যাম্প’ বলেও ডাকে। এই ল্যাম্প বা কুপিবাতির আকার অনেকটা গোলাকার ছোট ও চ্যাপ্টা। কাচের ঔষধের ছোট্ট শিশি দিয়ে কুপিবাতি বা ল্যাম্প তৈরি করা যায়। কিন্তু পিতল ও সিলভারের তৈরি কুপিবাতি দেখতে ছিল খুবই সুন্দর ও শৈল্পিক। পিতল ও সিলভারের তৈরি ভিন্ন ডিজাইনের এসব কুপিবাতি হাটবাজারে পাওয়া যেত অহরহ।
এক সময় রাতের আঁধার থেকে ফকফকা আলোতে নিজেকে আবিষ্কার করতে হারিকেন ছাড়া বিকল্প আর কোনো ব্যবস্থা ছিলই না। মানুষ হারিকেনের ওপর ভর করেই তার রাতের যাবতীয় কাজ সমাধা করতো। তাই তাকে রাতের বন্ধু, নিশি বেলার সাথী, আলোর পথ-প্রদর্শক, লণ্ঠন, গৃহমশাল, ঘরের আলো, প্রদীপ বাতি, কেরোসিন বাতি ইত্যাদি নামে ডাকা হতো। গ্রামের বাড়িতে হারিকেন ছিল না এমন কথা ভাবাই যেত না। হারিকেনের পাশাপাশি কুপিবাতি নামেও এক প্রকার বাতির প্রচলন ছিল গ্রামে, যা আলো দিতে সাহায্য করতো। ঠিক কখন থেকে হারিকেন বা কুপিবাতির প্রচলন হয় তা সঠিকভাবে বলা না গেলেও ধারণা করা যায় মোগল আমলের অনেক আগে থেকে বাংলায় এর প্রচলন শুরু হয় এবং অদ্যাবধি বাংলাদেশের অনেক এলাকায় তার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
এক সময় হারিকেনের আলো ব্যবহার করে ট্রেন চলাচল করতো। প্রতিটি রেলওয়ে স্টেশনে হারিকেন থাকা ছিল অপরিহার্য। হারিকেনের আলো রেলের সিগন্যাল হিসেবে কাজ করতো। তাছাড়া এই হারিকেন হাতে নিয়ে আমাদের ‘রানার’ ছুটত গ্রাম থেকে গ্রামে। দূর থেকে দূরান্তে। কিন্তু কালের বিবর্তনে তা আজ শুধুই স্মৃতি। বেশি দিন দূরের কথা নয়, এখন থেকে প্রায় ২ দশক আগেও বেশির ভাগ ঘরেই ব্যবহার হতো হারিকেনসহ বিভিন্ন ধরনের কুপিবাতি। কিন্তু আজ দুই দশক পরে এসে সেই দৃশ্য পুরোটাই পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে হারিকেন বা কুপিবাতির উপস্থিতি আমাদের প্রজন্মের কাছে হাস্যরসের সৃষ্টি করে।
কিন্তু মাত্র দুই দশক আগেও চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সন্ধ্যা আসার আগেই ঘরের ঝি-বউরা ব্যস্ত হয়ে পড়তো সন্ধ্যায় ঘরে আলো জ্বালানোর জন্য। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় আলো কমিয়ে জ্বালিয়ে রাখা হতো। ঠিক একইভাবে কুপিবাতিকেও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে প্রস্তুত করা হতো। কুপিবাতির প্রকারভেদ ছিল কয়েক ধরনের। প্রতিটি পরিবারে বা ঘরে এদের পরিচয়ও ছিল ভিন্ন নামে ভিন্নভাবে। যেমন-একনলা কুপিবাতি, দুইনলা কুপিবাতি, একতাক কুপিবাতি, দুইতাক কুপিবাতি ইত্যাদি। পিতল ও সিলভারের তৈরি কুপিবাতির ব্যবহারই ছিল সবচেয়ে বেশি।
মানুষের সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুরই পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। সুতরাং বিজ্ঞানের এ যুগে বাংলার ঐতিহ্য হারিকেন আর কুপিবাতি যে ধোপে টিকবে না তা যৌক্তিক বাস্তবতা। এটা আমাদের যে কোনভাবে মেনে নিতেই হবে। তাই বলে আমরা আমাদের ঐতিহ্য হেলায় ফেলে দেবো? তা কিন্তু নয়। আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে যত্ন সহকারে লালন করবো। সংরক্ষণ করবো। নতুন প্রজন্ম আমাদের কাছ থেকে আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য জানবে, শুনবে এবং দেখবে।
কিছুদিন আগে শুটিংয়ের মাঝেই দুর্ঘটনায় প্রয়াত হয়েছেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর সহকর্মীদের মাঝে তিনি যে প্রবল ভাবেই রয়েছেন, তার প্রমাণ মিলেছে ইন্ডাস্ট্রির একজোট হয়ে সামনে রাখা বেশ কিছু দাবিতে। এর মাঝেই রাহুলের অনুরাগীদের জন্য রয়েছে এক ভালো খবর। অভিনেতার অপ্রকাশিত কাজ বিনামূল্যে বড় পর্দায় দেখতে পাবেন তাঁরা।
আপনার মতামত লিখুন
Warning: Array to string conversion in /www/wwwroot/ctvusa.tv/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array