তুরস্কের স্কুলে এলোপাতাড়ি গুলিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নিহত ৯
তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি মাধ্যমিক স্কুলে ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রের গুলিতে আট শিক্ষার্থীসহ অন্তত নয়জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৩ জন। বুধবার হামলার ঘটনাটি ঘটে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। খবরে বলা হয়, দেশটিতে দুই দিনের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় বন্দুক হামলার ঘটনা।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তফা সাংবাদিকদের জানান, কাহরামানমারাস প্রদেশে এই হামলায় আট শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এটি আমাদেরই এক ছাত্রের ব্যক্তিগত হামলা, এর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো সম্পর্ক নেই।” এর আগে প্রদেশটির গভর্নর জানিয়েছিলেন, হামলার পর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে অভিযুক্ত ছাত্র নিজেও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
গভর্নর বলেন, “অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্র ব্যাগে করে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাতটি ম্যাগাজিন নিয়ে স্কুলে এসেছিল। আমরা ধারণা করছি, অস্ত্রগুলো তার বাবার, যিনি একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। সে পঞ্চম শ্রেণির দুটি ক্লাসরুমে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়।”
তুরস্কে সাধারণত ১০ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুরা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এই সপ্তাহের দুটি ঘটনার পর সরকার কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিস্তারিত কিছু না বলে জানান, প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। তুরস্কের গণমাধ্যম এনটিভি জানিয়েছে, অভিযুক্ত ছাত্রের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
তুরস্কে অস্ত্র আইন বেশ কড়া; কেবল ২১ বছরের বেশি বয়সী লাইসেন্সধারীরাই অস্ত্র রাখতে পারেন। তবে নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে অস্ত্র রাখার বিষয়ে শিথিলতা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাই না করা কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলির শব্দ শুনে প্রাণভয়ে স্কুলের দ্বিতীয় তলার জানালা দিয়ে শিক্ষার্থীরা লাফিয়ে পড়ছে। সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীকে বারান্দা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দুই ছাত্রকে গুলি করতে দেখা যায়।
এর আগে গত মঙ্গলবার তুরস্কের সানলিউরফা প্রদেশে এক সাবেক ছাত্রের গুলিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়। ওই হামলার পর হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করেছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।



আপনার মতামত লিখুন
Warning: Array to string conversion in /www/wwwroot/ctvusa.tv/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array