বাজার স্থিতিশীল রাখতে
আরও ৫ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক
বিদেশি মুদ্রার ‘যথেষ্ট’ মজুদ আছে দাবি করার এক সপ্তাহের মাথায় দুই দিনে বাজার থেকে ১২ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে চার ব্যাংক থেকে ৫ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগের দিন শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকে একই দরে ৭ কোটি ডলার কেনে।
তাতে প্রতি ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ৪৫ পয়সা। গত দেড় মাসের মধ্যে ডলারের বিপরীতে এই দর হারালো টাকা। অথচ এক সপ্তাহ আগে গত ৮ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক বিবৃতিতে বলেছিল, আমদানি ও বৈদেশিক পরিশোধ পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’। আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ নিয়মিত ও পরিকল্পিত ধারায় চলছে।
মার্চ মাসে আকুর বিল বাবদ ১.৩৭বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ সরকারি ঋণ পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে। তারপরও দেশে ৬ এপ্রিল বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে ছিল প্রায় ৩৪.৩৫ বিলিয়ন ডলার। এখনো তা ৩০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রয়েছে।
ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়, “ডলার বাজারে মূল্যমানে কোনো চাপ নেই এবং ডলারের মূল্যমান স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমেই রক্ষিত হচ্ছে। সার্বিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও চাহিদা বর্তমানে ভারসাম্যপূর্ণ রয়েছে। রেমিটেন্স প্রবাহ শক্তিশালী, বাজারে আস্থা ও শৃঙ্খলা বিদ্যমান থাকার ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে টাকার বিনিময় হারে অবমূল্যায়নের কোনো চাপ নেই এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।”
কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এখন ডলার কিনতে শুরু করায় দর হারাচ্ছে টাকা। জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, বৃহস্পতিবার চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২ দশমিক ৭৫ টাকা কাট অফ রেটে ৫ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
চলতি মাসে মোট ১২ কোটি ডলার কেনা হয়েছে। আর চলতি অর্থবছরে মোট ৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আন্তঃব্যাংক লেনদেনে গত বুধবার ডলার কেনাবেচা হয় সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৭৮ পয়সা দরে। যার সর্বোচ্চ রেফারেন্স রেট ছিল ১২২ টাকা ৮৮ পয়সা। বৃহস্পতিবার প্রতি ডলারের রেফারেন্স রেট ১২২ টাকা ৮৪ পয়সা।
দেড় মাস আগে গত ২ মার্চ প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখন ব্যাংকগুলোতে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় টাকা শক্তিশালী হতে শুরু করলে বিনিময় হার ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে নেয়। গভর্নর মোস্তাকুরের মেয়াদে সেদিনই প্রথম (অর্থাৎ ২ মার্চ) বাজার থেকে আড়াই কোটি ডলার কেনা হয় ১২২ টাকা ৩০ পয়সা কাটঅফ রেটে।
গত সপ্তাহে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে ডলার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কারণ হিসেব বলা হয়েছিল, ব্যাংকগুলোর কাছে গত মার্চের তুলনায় দায় বাদ দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার নিট পরিমাণ দ্বিগুণ ছিল সে সময়ে। এর মধ্যেই ফের ডলার কেনা শুরু করল বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বুধবার দিন শেষে রিজার্ভ দাড়িয়েছে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ৩০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে; আর গ্রস হিসাবে ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।



আপনার মতামত লিখুন
Warning: Array to string conversion in /www/wwwroot/ctvusa.tv/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array